০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিসে ভাত-রুটি খাওয়ার সঠিক কৌশল জানুন, নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে রক্তের শর্করা

নিউজ ডেস্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের সঠিক ক্রম অনুসরণ করলে ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

ডায়াবেটিসে ভাত-রুটি খাওয়ার সঠিক কৌশল জানুন, নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে রক্তের শর্করা

স্বাস্থ্য ডেস্ক

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেই মনে করেন, ভাত বা রুটি খেলেই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাবে। এ কারণে অনেকেই প্রিয় খাবার এড়িয়ে চলেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কোন ক্রমে খাচ্ছেন সেটিও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার গ্রহণের একটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভাত বা রুটি খেয়েও রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফুড সিকোয়েন্সিং’ (Food Sequencing)

কীভাবে কাজ করে ‘ফুড সিকোয়েন্সিং’?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, এরপর প্রোটিন এবং সবশেষে কার্বোহাইড্রেট খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক কম বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভাত বা রুটি খাওয়ার ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে এক বাটি স্যালাড খাওয়া যেতে পারে। স্যালাডে শসা, টমেটো, গাজর, ক্যাপসিকাম, বাঁধাকপি, লেটুস বা অন্যান্য সবুজ শাকসবজি রাখা ভালো।

এসব খাবারে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে। ফলে কার্বোহাইড্রেট থেকে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে মিশে এবং হঠাৎ রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

এরপর কী খাবেন?

স্যালাডের পর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন—

  • ডাল
  • মাছ
  • ডিম
  • মুরগির মাংস
  • ছোলা
  • সয়াবিন
  • টক দই

এসব খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং কার্বোহাইড্রেটের শোষণের গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়। এরপর পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি খাওয়া যেতে পারে।

খাবারের পর হাঁটাচলা উপকারী

পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটাচলা করলে শরীরের পেশি রক্তের গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা মেলে।

এ ছাড়া প্রতিটি খাবারের প্লেটের অর্ধেকজুড়ে শাকসবজি, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ কার্বোহাইড্রেট রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।

শুধু স্যালাড খেলেই হবে না

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, শুধু স্যালাড খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, ডায়াবেটিস মানেই ভাত-রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়। বরং সঠিক পরিমাণ, সঠিক সময় এবং সঠিক ক্রমে খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হতে পারে।

ডায়াবেটিসে ভাত-রুটি খাওয়ার সঠিক কৌশল জানুন, নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে রক্তের শর্করা

সময় : ১২:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ডায়াবেটিসে ভাত-রুটি খাওয়ার সঠিক কৌশল জানুন, নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে রক্তের শর্করা

স্বাস্থ্য ডেস্ক

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেই মনে করেন, ভাত বা রুটি খেলেই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাবে। এ কারণে অনেকেই প্রিয় খাবার এড়িয়ে চলেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কোন ক্রমে খাচ্ছেন সেটিও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার গ্রহণের একটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভাত বা রুটি খেয়েও রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফুড সিকোয়েন্সিং’ (Food Sequencing)

কীভাবে কাজ করে ‘ফুড সিকোয়েন্সিং’?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, এরপর প্রোটিন এবং সবশেষে কার্বোহাইড্রেট খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক কম বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভাত বা রুটি খাওয়ার ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে এক বাটি স্যালাড খাওয়া যেতে পারে। স্যালাডে শসা, টমেটো, গাজর, ক্যাপসিকাম, বাঁধাকপি, লেটুস বা অন্যান্য সবুজ শাকসবজি রাখা ভালো।

এসব খাবারে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে। ফলে কার্বোহাইড্রেট থেকে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে মিশে এবং হঠাৎ রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

এরপর কী খাবেন?

স্যালাডের পর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন—

  • ডাল
  • মাছ
  • ডিম
  • মুরগির মাংস
  • ছোলা
  • সয়াবিন
  • টক দই

এসব খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং কার্বোহাইড্রেটের শোষণের গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়। এরপর পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি খাওয়া যেতে পারে।

খাবারের পর হাঁটাচলা উপকারী

পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটাচলা করলে শরীরের পেশি রক্তের গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা মেলে।

এ ছাড়া প্রতিটি খাবারের প্লেটের অর্ধেকজুড়ে শাকসবজি, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ কার্বোহাইড্রেট রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।

শুধু স্যালাড খেলেই হবে না

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, শুধু স্যালাড খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, ডায়াবেটিস মানেই ভাত-রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়। বরং সঠিক পরিমাণ, সঠিক সময় এবং সঠিক ক্রমে খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হতে পারে।