০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন স্কালোনি

খেলাধুলা ডেস্ক

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্বে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই সিরিজেই লিওনেল মেসিকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে ফেরার আগে এশিয়ার একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি।

বুয়েনস এইরেসে পৌঁছানোর আগে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে স্কালোনি সরাসরি বলেননি, তিনি আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকবেন কি না। বরং বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি।’

২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে স্কালোনির থাকা নিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাকে অন্তত ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে রাখতে আগ্রহী। তবে স্কালোনি নিজে এএফএকে না বললে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাঁর এমন বক্তব্যের পর দলের কোচ হিসেবে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের এই উইন্ডোর জন্য স্কালোনি ক্যাম্পে বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে ডেকেছেন। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেটার জন্য সুযোগ তৈরি করবো। সত্যিই তারা এটার যোগ্য।’

তিনি বলেন, আগামী ম্যাচগুলোতে মূল লক্ষ্য থাকবে এমন তরুণদের সুযোগ দেওয়া, যারা আর্জেন্টিনার খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। তাঁর মতে, দরজায় কড়া নাড়া খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার সময় এসেছে।

স্কালোনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময় বলি বয়স কোনো মাপকাঠি নয়। কেউ থাকবে বা নতুন কেউ আসবে, সেটা নির্ভর করবে তাদের ক্লাবের পারফরম্যান্সের ওপর এবং আমরা তাদের প্রয়োজন মনে করি কি না তার ওপর।’

তবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য থাকবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারে—এমন সব খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া।

নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকা ২০২৪ জয়ের পরের সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, কোপা আমেরিকা জয়ের পরও তাঁর মনে হয়েছিল সামনে কঠিন সময় আসছে। কারণ সব শিরোপা জয়ের পর বিশ্বকাপের দুই বছর বাকি থাকতেই একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল।

তবে তিনি জানান, আবার সেই জায়গায় ফিরে গিয়ে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না, সেটি অনুভব করে দেখেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়েছে।

বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময় নিয়েও কথা বলেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ফাইনালের ফলাফল জয় বা হার যা-ই হোক, সেখান থেকেই নতুন একটি অধ্যায় শুরু হবে। তবে শিরোপা পুনরাবৃত্তির চেয়ে দলের প্রতি মানুষের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রাখাকে তিনি কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন।

স্কালোনির ভাষায়, ‘মানুষ এই জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে ফেলেছে। ভয় লাগে, তবে ভালো অর্থেই ভয় লাগে।’

তিনি বলেন, আবার একই ধরনের সাফল্যের চেষ্টা করা সহজ হবে না। একজন কোচ এবং দলের প্রধান হিসেবে বিষয়টি কঠিন হতে যাচ্ছে—এটা বুঝতে হবে। তবে তাঁরা থাকুন বা না থাকুন, চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের পরিস্থিতি নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি।

তিনি বলেন, আগের বিশ্বকাপে দল অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিল এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। এবার দল অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়েছিল।

স্কালোনির মতে, এবার অনেক খেলোয়াড় শতভাগ ফিট ছিলেন না। তারপরও তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। আগের তুলনায় এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে দলকে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেসব খেলোয়াড়কে চেয়েছিলাম, তাদের নিয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমাদের যা বলা হয়েছিল তা সত্যি ছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে।’

আর্জেন্টিনা দলের হয়ে গত কয়েক বছরে সবকিছু দেওয়া খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন স্কালোনি। তাঁর মতে, একজন ফুটবলারের চেয়ে মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন স্কালোনি

সময় : ০২:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই সিরিজেই লিওনেল মেসিকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে ফেরার আগে এশিয়ার একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি।

বুয়েনস এইরেসে পৌঁছানোর আগে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে স্কালোনি সরাসরি বলেননি, তিনি আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকবেন কি না। বরং বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি।’

২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে স্কালোনির থাকা নিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাকে অন্তত ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে রাখতে আগ্রহী। তবে স্কালোনি নিজে এএফএকে না বললে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাঁর এমন বক্তব্যের পর দলের কোচ হিসেবে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের এই উইন্ডোর জন্য স্কালোনি ক্যাম্পে বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে ডেকেছেন। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেটার জন্য সুযোগ তৈরি করবো। সত্যিই তারা এটার যোগ্য।’

তিনি বলেন, আগামী ম্যাচগুলোতে মূল লক্ষ্য থাকবে এমন তরুণদের সুযোগ দেওয়া, যারা আর্জেন্টিনার খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। তাঁর মতে, দরজায় কড়া নাড়া খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার সময় এসেছে।

স্কালোনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময় বলি বয়স কোনো মাপকাঠি নয়। কেউ থাকবে বা নতুন কেউ আসবে, সেটা নির্ভর করবে তাদের ক্লাবের পারফরম্যান্সের ওপর এবং আমরা তাদের প্রয়োজন মনে করি কি না তার ওপর।’

তবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য থাকবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারে—এমন সব খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া।

নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকা ২০২৪ জয়ের পরের সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, কোপা আমেরিকা জয়ের পরও তাঁর মনে হয়েছিল সামনে কঠিন সময় আসছে। কারণ সব শিরোপা জয়ের পর বিশ্বকাপের দুই বছর বাকি থাকতেই একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল।

তবে তিনি জানান, আবার সেই জায়গায় ফিরে গিয়ে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না, সেটি অনুভব করে দেখেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়েছে।

বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময় নিয়েও কথা বলেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ফাইনালের ফলাফল জয় বা হার যা-ই হোক, সেখান থেকেই নতুন একটি অধ্যায় শুরু হবে। তবে শিরোপা পুনরাবৃত্তির চেয়ে দলের প্রতি মানুষের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রাখাকে তিনি কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন।

স্কালোনির ভাষায়, ‘মানুষ এই জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে ফেলেছে। ভয় লাগে, তবে ভালো অর্থেই ভয় লাগে।’

তিনি বলেন, আবার একই ধরনের সাফল্যের চেষ্টা করা সহজ হবে না। একজন কোচ এবং দলের প্রধান হিসেবে বিষয়টি কঠিন হতে যাচ্ছে—এটা বুঝতে হবে। তবে তাঁরা থাকুন বা না থাকুন, চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের পরিস্থিতি নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি।

তিনি বলেন, আগের বিশ্বকাপে দল অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিল এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। এবার দল অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়েছিল।

স্কালোনির মতে, এবার অনেক খেলোয়াড় শতভাগ ফিট ছিলেন না। তারপরও তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। আগের তুলনায় এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে দলকে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেসব খেলোয়াড়কে চেয়েছিলাম, তাদের নিয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমাদের যা বলা হয়েছিল তা সত্যি ছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে।’

আর্জেন্টিনা দলের হয়ে গত কয়েক বছরে সবকিছু দেওয়া খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন স্কালোনি। তাঁর মতে, একজন ফুটবলারের চেয়ে মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।