০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শার্শা-বেনাপোলে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ২২ জন

নিউজ ডেস্ক

যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে ২২ জন ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হয়েছেন।

যশোর প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুসহ ২২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সারাদেশের মতো গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব পরিবহন দিনে-রাতে যাত্রী ও পণ্য নিয়ে বেনাপোলে আসে। ফলে যানবাহনের ভেতরে মশা থাকলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক যানবাহন অবস্থান করে। এসব যানবাহনে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে উপজেলাজুড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগেই উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে পরিষ্কার পানি জমে থাকে—এমন পাত্র, ফুলের টব, হাঁড়ি-পাতিল ও চিপসের প্যাকেট না রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। কোথাও যাতে দুই-তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়েও নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম, ফ্যান ও লাইট ঠিকমতো চলে না এবং গরমে রোগীদের কষ্ট হচ্ছে। কেউ কেউ বাড়ি থেকে ফ্যান নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার মান ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর দেওয়া হোক।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার তৌফিক পারভেজ বলেন, সারা দেশের মতো শার্শা উপজেলাতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন বছরের একটি শিশুও রয়েছে। গত মাসের তুলনায় এ সংখ্যা অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এলাকার সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশারি ব্যবহার করতে হবে। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সারা দেশের মতো শার্শা উপজেলাতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শার্শা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় মশা নিধনের জন্য পর্যাপ্ত স্প্রে রয়েছে। ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনের স্প্রে করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বড় বড় ভবনের মালিকদেরও সচেতন থাকতে হবে। সাধারণ মানুষকেও সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। সরকারের ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করবে।

শার্শা-বেনাপোলে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ২২ জন

সময় : ০৪:২৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোর প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুসহ ২২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সারাদেশের মতো গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব পরিবহন দিনে-রাতে যাত্রী ও পণ্য নিয়ে বেনাপোলে আসে। ফলে যানবাহনের ভেতরে মশা থাকলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক যানবাহন অবস্থান করে। এসব যানবাহনে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে উপজেলাজুড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগেই উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে পরিষ্কার পানি জমে থাকে—এমন পাত্র, ফুলের টব, হাঁড়ি-পাতিল ও চিপসের প্যাকেট না রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। কোথাও যাতে দুই-তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়েও নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম, ফ্যান ও লাইট ঠিকমতো চলে না এবং গরমে রোগীদের কষ্ট হচ্ছে। কেউ কেউ বাড়ি থেকে ফ্যান নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার মান ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর দেওয়া হোক।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার তৌফিক পারভেজ বলেন, সারা দেশের মতো শার্শা উপজেলাতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন বছরের একটি শিশুও রয়েছে। গত মাসের তুলনায় এ সংখ্যা অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এলাকার সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশারি ব্যবহার করতে হবে। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সারা দেশের মতো শার্শা উপজেলাতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শার্শা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় মশা নিধনের জন্য পর্যাপ্ত স্প্রে রয়েছে। ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনের স্প্রে করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বড় বড় ভবনের মালিকদেরও সচেতন থাকতে হবে। সাধারণ মানুষকেও সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। সরকারের ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করবে।