০৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আইআইএমএম প্রধানের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক।

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের প্রভাব, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমারের (আইআইএমএম) প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ মাত্রায় অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের চলমান সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রায় দুই শতাধিক ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

তিনি বলেন, এসব সাক্ষাৎকার থেকে সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।

নিকোলাস কৌমুজিয়ান আরও জানান, আইআইএমএম শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাগুলোর তদন্তেই সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ফলে বেসামরিক জনগণের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে মিয়ানমার অংশ থেকে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে এসব মাইন সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় সাধারণ কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে জানান তিনি।

এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্রও তুলে ধরা হয়।

আইআইএমএমের প্রতিনিধিদল সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভিকটিমদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি জানানো হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এই রায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরত পাঠাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সীমান্তে মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সময় : ০৪:১৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের প্রভাব, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমারের (আইআইএমএম) প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ মাত্রায় অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের চলমান সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রায় দুই শতাধিক ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

তিনি বলেন, এসব সাক্ষাৎকার থেকে সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।

নিকোলাস কৌমুজিয়ান আরও জানান, আইআইএমএম শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাগুলোর তদন্তেই সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ফলে বেসামরিক জনগণের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে মিয়ানমার অংশ থেকে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে এসব মাইন সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় সাধারণ কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে জানান তিনি।

এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্রও তুলে ধরা হয়।

আইআইএমএমের প্রতিনিধিদল সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভিকটিমদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি জানানো হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এই রায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরত পাঠাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।