ছয় মাসে সোনার দাম কমেছে ২০ শতাংশ, এখন কি কেনার উপযুক্ত সময়?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। গত ছয় মাসে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ৪০০ ডলারের বেশি কমেছে, যা শতাংশের হিসাবে ২০ শতাংশেরও বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরুতে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি উঠেছিল। তবে জুলাইয়ের শেষ দিনে সেই দাম নেমে এসেছে প্রায় ৪ হাজার ৪৪ ডলারে। এতে প্রতি ভরি সোনার আন্তর্জাতিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা থেকে কমে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার, উচ্চ সুদের হার এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়াই সোনার দাম কমার অন্যতম কারণ। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা নিয়ে বাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
এআইস্টকওয়্যার ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড হ্যান বলেন, দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখনও নিয়মিত সোনা কিনছে। তাই স্বল্পমেয়াদি দামের ওঠানামাকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই সোনার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। পরে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের উচ্চ সুদের নীতির কারণে অনেক বিনিয়োগকারী ট্রেজারি বিলসহ সুদভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ান, ফলে সোনার চাহিদা কিছুটা কমে যায়।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞ বর্তমান পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ডেভিড হ্যানের মতে, ২০১১ সালের মতো বড় পতনের পরও অতীতে সোনার বাজার শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাই বর্তমান দামে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ লাভজনক হতে পারে।
মিয়ামিভিত্তিক আইআরএ ফিন্যান্সিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম বার্গম্যানও মনে করেন, সোনাকে স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং ১০ থেকে ২০ বছরের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ সংরক্ষণ ও বৈচিত্র্য আনতে সোনা এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
**সূত্র:** গোল্ড প্রাইস, ফোর্বস।


















