১২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুতি হামলায় সৌদি আরবে আহত ১১, সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় সতর্ক রিয়াদ

নিউজ ডেস্ক

নাজরানে হুতি হামলায় ১১ বেসামরিক ব্যক্তি আহত হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছে সৌদি আরব।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে ১১ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, হুতি বিদ্রোহী ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শিগগিরই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালাতে পারে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি শুক্রবার ভোরে জানান, বৃহস্পতিবার নাজরানে হুতিদের গোলাবর্ষণে সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, হুতিরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হুতি বিদ্রোহী কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে থাকা হুতি ও ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শিগগিরই সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জ্বালানি স্থাপনা, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর রয়েছে। এ কারণে সৌদি আরব মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার সৌদি আরবে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। যদিও চুক্তিটির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের পৃথক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিও হয়েছিল।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। একই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও দেশটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সৌদি কর্মকর্তার দাবি, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সেই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেও হতে পারে।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সব পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সরাসরি সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে সৌদি আরব প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত মঙ্গলবার নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে হুতি বিদ্রোহীরা। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে তারা সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে হুতিরা।

এর আগে ২৯ জুলাই সৌদি আরব জানায়, তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে ইরাকের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। এরপর ইরাকের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দেয়।

হুতি হামলায় সৌদি আরবে আহত ১১, সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় সতর্ক রিয়াদ

সময় : ১২:০১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে ১১ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, হুতি বিদ্রোহী ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শিগগিরই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালাতে পারে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি শুক্রবার ভোরে জানান, বৃহস্পতিবার নাজরানে হুতিদের গোলাবর্ষণে সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, হুতিরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হুতি বিদ্রোহী কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে থাকা হুতি ও ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শিগগিরই সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জ্বালানি স্থাপনা, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর রয়েছে। এ কারণে সৌদি আরব মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার সৌদি আরবে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। যদিও চুক্তিটির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের পৃথক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিও হয়েছিল।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। একই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও দেশটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সৌদি কর্মকর্তার দাবি, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সেই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেও হতে পারে।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সব পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সরাসরি সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে সৌদি আরব প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত মঙ্গলবার নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে হুতি বিদ্রোহীরা। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে তারা সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে হুতিরা।

এর আগে ২৯ জুলাই সৌদি আরব জানায়, তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে ইরাকের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। এরপর ইরাকের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দেয়।