০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ: ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি

নিউজ ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ লাইন্সের গেট ও কম্পাউন্ড ডিউটিতে দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে উচ্চস্বরে গান-বাজনা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সের গেটে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মাদ্রাসাছাত্ররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসাছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা পুলিশ শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তদন্তাধীন বিষয়ে অনুমাননির্ভর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সর্বসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

এদিকে মাদ্রাসার মুহতামিম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অনুরোধ করার পরও উচ্চস্বরে গান-বাজনা হচ্ছিল। মানুষকে কষ্ট দিয়ে গান শোনার অনুমতি ইসলাম বা সরকার কাউকেই দেয়নি।

পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে বলেন, কেউ অতি উৎসাহী হয়ে কোনো কিছু করে থাকলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ: ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি

সময় : ১০:৪১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ লাইন্সের গেট ও কম্পাউন্ড ডিউটিতে দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে উচ্চস্বরে গান-বাজনা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সের গেটে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মাদ্রাসাছাত্ররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসাছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা পুলিশ শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তদন্তাধীন বিষয়ে অনুমাননির্ভর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সর্বসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

এদিকে মাদ্রাসার মুহতামিম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অনুরোধ করার পরও উচ্চস্বরে গান-বাজনা হচ্ছিল। মানুষকে কষ্ট দিয়ে গান শোনার অনুমতি ইসলাম বা সরকার কাউকেই দেয়নি।

পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে বলেন, কেউ অতি উৎসাহী হয়ে কোনো কিছু করে থাকলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।