১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল, বাড়ল সোনার দাম

নিউজ ডেস্ক

ইরান ইস্যুতে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও সোনার দাম বেড়েছে।

অর্থনীতি ডেস্ক: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক নতুন অবস্থান এবং ডলারের দুর্বলতা এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ।

সোমবার (৩ আগস্ট) ট্রাম্প জানান, তিনি আপাতত ইরানের ওপর নতুন হামলা থেকে বিরত থাকছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছেন। তাঁর এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ শতাংশের বেশি কমে ৮৩ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলারে নেমে আসে।

অন্যদিকে গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৮ দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের ইয়েনকে সমর্থন দিতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে দেশটির হস্তক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলার দুর্বল হয়েছে। এতে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা সোনার দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে সোনার বাজার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও তেলের বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়ে তেলের দাম আবার বাড়ে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সোনার দামে চাপ তৈরি হতে পারে।

এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরির শূন্য পদের তথ্য, এডিপির বেসরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদন এবং বহুল প্রত্যাশিত অকৃষি খাতের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন। এসব তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ নজর থাকবে।

গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের পর তিন কর্মকর্তা জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদি সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির আগে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পটমার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৮ দশমিক ৪৬ ডলার, প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৩ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল, বাড়ল সোনার দাম

সময় : ০৩:১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক নতুন অবস্থান এবং ডলারের দুর্বলতা এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ।

সোমবার (৩ আগস্ট) ট্রাম্প জানান, তিনি আপাতত ইরানের ওপর নতুন হামলা থেকে বিরত থাকছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছেন। তাঁর এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ শতাংশের বেশি কমে ৮৩ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলারে নেমে আসে।

অন্যদিকে গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৮ দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের ইয়েনকে সমর্থন দিতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে দেশটির হস্তক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলার দুর্বল হয়েছে। এতে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা সোনার দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে সোনার বাজার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও তেলের বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়ে তেলের দাম আবার বাড়ে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সোনার দামে চাপ তৈরি হতে পারে।

এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরির শূন্য পদের তথ্য, এডিপির বেসরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদন এবং বহুল প্রত্যাশিত অকৃষি খাতের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন। এসব তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ নজর থাকবে।

গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের পর তিন কর্মকর্তা জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদি সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির আগে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পটমার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৮ দশমিক ৪৬ ডলার, প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৩ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।