১২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গুতে ৩ দিনে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরে ডেঙ্গুতে তিন দিনের ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিন দিনের ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরপর দুই মৃত্যুর ঘটনায় কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতু (২০) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর দুই দিন আগে, ২৩ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গুতে প্রাণ হারায় সাত বছরের শিশু শিক্ষার্থী সাদিয়া।

ডেঙ্গুতে মারা গেলেন কলেজ শিক্ষার্থী

সুমাইয়া আক্তার মিতু বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী কুদ্দুস নগর এলাকায় বসবাস করতেন।

গত বছর কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন মিতু। অনার্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল তার।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চলতি মাসের ১৮ আগস্ট সুমাইয়ার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মিতুর চাচা মাইনুল ইসলাম বলেন, ভাতিজিকে নিয়ে পরিবারের সবার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। তার মৃত্যুতে পরিবারের সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

তিনি জানান, মিতুর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

দুই দিন আগে শিশুর মৃত্যু

সুমাইয়ার মৃত্যুর দুই দিন আগে, গত ২৩ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গুতে মারা যায় সাত বছরের শিশু সাদিয়া।

সাদিয়া পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার তেলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ফজলু মোল্লার বাসায় ভাড়া থাকত। স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত শিশুটি।

পরপর দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

কোনাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে।

রোগীদের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে আসন সংকট থাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের বারান্দায় রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মোড়ল বলেন, অনেকেই আর্থিক সংকটের কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তাদের সুচিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

ফগিংয়ের পরও কমছে না উদ্বেগ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তবে এসব উদ্যোগের মধ্যেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে আরও কার্যকর ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বাড়ির আশপাশে তিন দিনের বেশি সময় পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই মশা কাউকে কামড়ালে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, নিয়মিত ফগিংয়ের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গুতে ৩ দিনে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সময় : ১২:২৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিন দিনের ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরপর দুই মৃত্যুর ঘটনায় কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতু (২০) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর দুই দিন আগে, ২৩ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গুতে প্রাণ হারায় সাত বছরের শিশু শিক্ষার্থী সাদিয়া।

ডেঙ্গুতে মারা গেলেন কলেজ শিক্ষার্থী

সুমাইয়া আক্তার মিতু বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী কুদ্দুস নগর এলাকায় বসবাস করতেন।

গত বছর কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন মিতু। অনার্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল তার।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চলতি মাসের ১৮ আগস্ট সুমাইয়ার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মিতুর চাচা মাইনুল ইসলাম বলেন, ভাতিজিকে নিয়ে পরিবারের সবার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। তার মৃত্যুতে পরিবারের সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

তিনি জানান, মিতুর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

দুই দিন আগে শিশুর মৃত্যু

সুমাইয়ার মৃত্যুর দুই দিন আগে, গত ২৩ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গুতে মারা যায় সাত বছরের শিশু সাদিয়া।

সাদিয়া পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার তেলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ফজলু মোল্লার বাসায় ভাড়া থাকত। স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত শিশুটি।

পরপর দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

কোনাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে।

রোগীদের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে আসন সংকট থাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের বারান্দায় রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মোড়ল বলেন, অনেকেই আর্থিক সংকটের কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তাদের সুচিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

ফগিংয়ের পরও কমছে না উদ্বেগ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তবে এসব উদ্যোগের মধ্যেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে আরও কার্যকর ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বাড়ির আশপাশে তিন দিনের বেশি সময় পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই মশা কাউকে কামড়ালে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, নিয়মিত ফগিংয়ের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।