১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যা-পাহাড়ধসে আটকা সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান, দেশে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তা

নিউজ ডেস্ক

বন্যা ও পাহাড়ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নেপালের ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকা পড়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান।

তাসরিফ খান নেপালে আটকা পড়েছেন বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে। ২০ আগস্ট অবসর কাটাতে নেপালে যান এই সংগীতশিল্পী। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সঙ্গীদের নিয়ে পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুকে আটকা পড়েছেন তিনি।

তবে বুধবার বড় ধরনের বিপর্যয়ের মূল এলাকা রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাঁরা নেই। ঘান্দ্রুক থেকে ওই এলাকার সরলরেখার দূরত্ব প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার।

দুই দিন ধরে নেপালের ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকে আছেন তাসরিফ খান। সবাই সুস্থ থাকলেও কবে সেখান থেকে বের হতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

ঘান্দ্রুক নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার পরিচিত পর্যটন গ্রাম। অন্নপূর্ণ অঞ্চলের এই গ্রাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচুতে। তাসরিফ জানান, তাঁরা যে এলাকায় অবস্থান করছেন, সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ দেখেননি। তবে মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সেতুও ভেঙে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন ওই পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে।

বুধবার রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যে বড় বিপর্যয় ঘটেছে, সেটি ঘান্দ্রুক থেকে অনেক দূরে। তবে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের দুর্যোগের খবর এবং তাঁদের ফেরার পথের অবস্থা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।

তাসরিফ জানান, মঙ্গলবার তাঁরা ঘান্দ্রুকে এসেছিলেন এবং বুধবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু বের হতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তখন গাইড এসে জানান, সেদিন আর যাওয়া যাবে না, কারণ পথে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

পরে তাঁরা জানতে পারেন, যে পথ দিয়ে তাঁদের ফেরার কথা ছিল, সেটির বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। সময়মতো বের হলে তাঁরাও বিপদের মধ্যে পড়তে পারতেন। তাসরিফের ভাষায়, দেরি হওয়াটাই তাঁদের রক্ষা করেছে।

বর্তমানে তাঁদের গাইড বিকল্প পথের খোঁজ নিতে এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বাইরে গেছেন। তিনি ফিরে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের আরও দুই–তিন দিন ঘান্দ্রুকে থাকতে হতে পারে।

স্থানীয় মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তাসরিফ। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষের নিখোঁজ হওয়ার খবর স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন তিনি। পাহাড়ি এই এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলেও শুনেছেন। পর্যটননির্ভর এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের জীবিকা নিয়েও চিন্তিত।

তাসরিফ জানান, তাঁর হাতে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও প্রায় ১০০ ডলার রয়েছে। কার্ডে টাকা থাকলেও সেখানে কার্ড বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে নগদ অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দেশে ফেরার নতুন টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না।

স্বাভাবিক সড়কপথ ব্যবহার করা না গেলে নদীর পাশ দিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেকিং করতে হতে পারে। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের মধ্যে সেই পথও বিপজ্জনক। পরিস্থিতি নিশ্চিত না হয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না বলে জানিয়েছেন তিনি।

টানা কাজের পর কয়েক দিনের অবসর কাটাতেই নেপালে গিয়েছিলেন তাসরিফ খান। সম্প্রতি তাঁর রোমান্টিক ঘরানার মৌলিক গান ‘বৃষ্টি’ মুক্তি পেয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মঞ্চ পরিবেশনাও চলছিল। কাজের ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিতেই এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। গানটিতে জীবন, প্রেম ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরা হবে। তবে নেপালে আটকা পড়ার পর এখন আর অন্য কিছু ভাবতে পারছেন না তাসরিফ।

তাঁর একটাই চাওয়া—নিরাপদে দেশে ফেরা। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।

নেপালে বন্যা-পাহাড়ধসে আটকা সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান, দেশে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তা

সময় : ১১:৩৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

তাসরিফ খান নেপালে আটকা পড়েছেন বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে। ২০ আগস্ট অবসর কাটাতে নেপালে যান এই সংগীতশিল্পী। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সঙ্গীদের নিয়ে পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুকে আটকা পড়েছেন তিনি।

তবে বুধবার বড় ধরনের বিপর্যয়ের মূল এলাকা রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাঁরা নেই। ঘান্দ্রুক থেকে ওই এলাকার সরলরেখার দূরত্ব প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার।

দুই দিন ধরে নেপালের ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকে আছেন তাসরিফ খান। সবাই সুস্থ থাকলেও কবে সেখান থেকে বের হতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

ঘান্দ্রুক নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার পরিচিত পর্যটন গ্রাম। অন্নপূর্ণ অঞ্চলের এই গ্রাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচুতে। তাসরিফ জানান, তাঁরা যে এলাকায় অবস্থান করছেন, সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ দেখেননি। তবে মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সেতুও ভেঙে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন ওই পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে।

বুধবার রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যে বড় বিপর্যয় ঘটেছে, সেটি ঘান্দ্রুক থেকে অনেক দূরে। তবে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের দুর্যোগের খবর এবং তাঁদের ফেরার পথের অবস্থা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।

তাসরিফ জানান, মঙ্গলবার তাঁরা ঘান্দ্রুকে এসেছিলেন এবং বুধবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু বের হতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তখন গাইড এসে জানান, সেদিন আর যাওয়া যাবে না, কারণ পথে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

পরে তাঁরা জানতে পারেন, যে পথ দিয়ে তাঁদের ফেরার কথা ছিল, সেটির বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। সময়মতো বের হলে তাঁরাও বিপদের মধ্যে পড়তে পারতেন। তাসরিফের ভাষায়, দেরি হওয়াটাই তাঁদের রক্ষা করেছে।

বর্তমানে তাঁদের গাইড বিকল্প পথের খোঁজ নিতে এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বাইরে গেছেন। তিনি ফিরে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের আরও দুই–তিন দিন ঘান্দ্রুকে থাকতে হতে পারে।

স্থানীয় মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তাসরিফ। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষের নিখোঁজ হওয়ার খবর স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন তিনি। পাহাড়ি এই এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলেও শুনেছেন। পর্যটননির্ভর এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের জীবিকা নিয়েও চিন্তিত।

তাসরিফ জানান, তাঁর হাতে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও প্রায় ১০০ ডলার রয়েছে। কার্ডে টাকা থাকলেও সেখানে কার্ড বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে নগদ অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দেশে ফেরার নতুন টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না।

স্বাভাবিক সড়কপথ ব্যবহার করা না গেলে নদীর পাশ দিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেকিং করতে হতে পারে। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের মধ্যে সেই পথও বিপজ্জনক। পরিস্থিতি নিশ্চিত না হয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না বলে জানিয়েছেন তিনি।

টানা কাজের পর কয়েক দিনের অবসর কাটাতেই নেপালে গিয়েছিলেন তাসরিফ খান। সম্প্রতি তাঁর রোমান্টিক ঘরানার মৌলিক গান ‘বৃষ্টি’ মুক্তি পেয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মঞ্চ পরিবেশনাও চলছিল। কাজের ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিতেই এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। গানটিতে জীবন, প্রেম ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরা হবে। তবে নেপালে আটকা পড়ার পর এখন আর অন্য কিছু ভাবতে পারছেন না তাসরিফ।

তাঁর একটাই চাওয়া—নিরাপদে দেশে ফেরা। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।