১১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাণনাশের হুমকির পর লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প, ‘বাইরে বের হয় না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রাণনাশের হুমকির পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন ব্যারন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প তার জীবনের তৃতীয় দশকে পা দেওয়ার পর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে জীবনযাপন করছেন। বাবার ওপর একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার আবহাওয়াই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের।

এরই মধ্যে সম্প্রতি ইরানের কাছ থেকেও হুমকি পেয়েছেন ব্যারন ট্রাম্প।

এ অবস্থায় নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করা ২০ বছর বয়সী ব্যারনকে নিয়ে পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, ‘সে একদমই বাইরে বের হয় না।’ গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় তিনি নিউজার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে মা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেই কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত তিনটি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেছেন। মার্কিন শত্রুদের নজর থেকে রক্ষা পাননি তার ছোট ছেলেও।

সম্প্রতি এক ইরানি গোষ্ঠী ‘কোথায় পাওয়া যাবে ব্যারন ট্রাম্পকে’ শীর্ষক একটি ভিডিও প্রকাশ করে এবং তার মাথার ওপর ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেবল ব্যারনই নন, লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকেও।

এ ছাড়া, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল পরিবেশকর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডে ব্যারন গভীরভাবে মানসিক আঘাত পান বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে ব্যারনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বাবার কাছে এই ঘটনার খবর পৌঁছে দেওয়ার সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘বাইরে পা রাখলে ঠিক এটাই ঘটে’।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলানিয়া ট্রাম্পের দপ্তর ব্যারনকে নিয়ে যেকোনো ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য বা সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে।

মেলানিয়া সবসময়ই ছেলেকে নিয়ে অত্যন্ত সুরক্ষাশীল। ২০২২ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হলে ১৬ বছর বয়সে ব্যারনের সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা হারানোর কথা ছিল। কিন্তু মেলানিয়ার অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই নিরাপত্তার মেয়াদ বাড়িয়ে দেন।

ব্যারনের এই আত্মগোপন বা ঘরের মধ্যে থাকার সিদ্ধান্তকে বিশেষজ্ঞরা স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞ সাইকোথেরাপিস্ট ড. আজিতা সায়ানের মতে, একাকী থাকা মানেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া নয়। ব্যারন নিজেকে সুরক্ষিত রাখছেন এবং লোকদেখানো জীবন এড়িয়ে চলছেন, যা তার বয়সে মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচায়ক হতে পারে।

ট্রাম্প পরিবারের অন্যান্য সন্তান—ডন জুনিয়র, এরিক, ইভানকা কিংবা টিফানি—সবাই কমবেশি রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমক্ষে নিয়মিত আসেন। তবে ব্যারন চলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে।

উচ্চতায় ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা ব্যারনের জন্য হোয়াইট হাউসে নিজস্ব কাস্টমাইজড আসবাবপত্র সংবলিত ঘর থেকে শুরু করে ট্রাম্প টাওয়ারের আলাদা ফ্লোর ও মার-আ-লাগোতে নিজস্ব স্যুট রয়েছে। যেখানেই যান না কেন, গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি নিজের ব্যক্তিগত কক্ষে চলে যান তিনি।

রাজনীতির চেয়ে ব্যবসার দিকেই ব্যারনের বেশি আগ্রহ। ইতোমধ্যে হাইস্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে হার্বাল এনার্জি ড্রিংকস ব্যবসা ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ শুরু করলেও কোনো প্রচারণায় তাকে সামনে আসতে দেখা যায় না।

গত ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বুলেটপ্রুফ কাঁচের পেছন থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করতে দেখা গিয়েছিল ফুটবলপ্রেমী ব্যারন ট্রাম্পকে। জনসমক্ষে সেটিই ছিল তার শেষ উপস্থিতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাণনাশের হুমকির পর লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প, ‘বাইরে বের হয় না’

সময় : ০৫:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প তার জীবনের তৃতীয় দশকে পা দেওয়ার পর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে জীবনযাপন করছেন। বাবার ওপর একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার আবহাওয়াই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের।

এরই মধ্যে সম্প্রতি ইরানের কাছ থেকেও হুমকি পেয়েছেন ব্যারন ট্রাম্প।

এ অবস্থায় নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করা ২০ বছর বয়সী ব্যারনকে নিয়ে পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, ‘সে একদমই বাইরে বের হয় না।’ গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় তিনি নিউজার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে মা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেই কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত তিনটি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেছেন। মার্কিন শত্রুদের নজর থেকে রক্ষা পাননি তার ছোট ছেলেও।

সম্প্রতি এক ইরানি গোষ্ঠী ‘কোথায় পাওয়া যাবে ব্যারন ট্রাম্পকে’ শীর্ষক একটি ভিডিও প্রকাশ করে এবং তার মাথার ওপর ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেবল ব্যারনই নন, লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকেও।

এ ছাড়া, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল পরিবেশকর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডে ব্যারন গভীরভাবে মানসিক আঘাত পান বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে ব্যারনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বাবার কাছে এই ঘটনার খবর পৌঁছে দেওয়ার সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘বাইরে পা রাখলে ঠিক এটাই ঘটে’।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলানিয়া ট্রাম্পের দপ্তর ব্যারনকে নিয়ে যেকোনো ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য বা সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে।

মেলানিয়া সবসময়ই ছেলেকে নিয়ে অত্যন্ত সুরক্ষাশীল। ২০২২ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হলে ১৬ বছর বয়সে ব্যারনের সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা হারানোর কথা ছিল। কিন্তু মেলানিয়ার অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই নিরাপত্তার মেয়াদ বাড়িয়ে দেন।

ব্যারনের এই আত্মগোপন বা ঘরের মধ্যে থাকার সিদ্ধান্তকে বিশেষজ্ঞরা স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞ সাইকোথেরাপিস্ট ড. আজিতা সায়ানের মতে, একাকী থাকা মানেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া নয়। ব্যারন নিজেকে সুরক্ষিত রাখছেন এবং লোকদেখানো জীবন এড়িয়ে চলছেন, যা তার বয়সে মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচায়ক হতে পারে।

ট্রাম্প পরিবারের অন্যান্য সন্তান—ডন জুনিয়র, এরিক, ইভানকা কিংবা টিফানি—সবাই কমবেশি রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমক্ষে নিয়মিত আসেন। তবে ব্যারন চলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে।

উচ্চতায় ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা ব্যারনের জন্য হোয়াইট হাউসে নিজস্ব কাস্টমাইজড আসবাবপত্র সংবলিত ঘর থেকে শুরু করে ট্রাম্প টাওয়ারের আলাদা ফ্লোর ও মার-আ-লাগোতে নিজস্ব স্যুট রয়েছে। যেখানেই যান না কেন, গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি নিজের ব্যক্তিগত কক্ষে চলে যান তিনি।

রাজনীতির চেয়ে ব্যবসার দিকেই ব্যারনের বেশি আগ্রহ। ইতোমধ্যে হাইস্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে হার্বাল এনার্জি ড্রিংকস ব্যবসা ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ শুরু করলেও কোনো প্রচারণায় তাকে সামনে আসতে দেখা যায় না।

গত ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বুলেটপ্রুফ কাঁচের পেছন থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করতে দেখা গিয়েছিল ফুটবলপ্রেমী ব্যারন ট্রাম্পকে। জনসমক্ষে সেটিই ছিল তার শেষ উপস্থিতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।