০৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূলের নাম-প্রতীক স্থগিতের নির্দেশে ক্ষুব্ধ রাহুল, কমিশনকে কটাক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তৃণমূলের নাম ও প্রতীক সাময়িক স্থগিতের নির্দেশের প্রতিবাদে সরব রাহুল গান্ধীসহ বিরোধীরা।

কলকাতা প্রতিনিধি: নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের নাম ব্যবহারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী দল।

শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে কাজ করে বিরোধী দলগুলোকে দুর্বল করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের (এনসিপি) ভাঙনের উদাহরণ টেনে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন।

রাহুলের বক্তব্য, প্রথমে শিবসেনা, পরে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস এবং এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, একটি দলকে বিভক্ত করার পর তার নির্বাচনী প্রতীকও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি এই ঘটনাকে “ভোটচুরি, সরকারচুরির পর দলচুরি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এগুলো রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা নয়।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই নয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান এমন প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও ভোটারের বিষয়।

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানায়, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর কেউই আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও পৃথক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

কমিশন জানিয়েছে, দুই গোষ্ঠী নিজেদের জন্য পৃথক নাম বেছে নিতে পারবে এবং প্রয়োজনে সেই নামের সঙ্গে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্কের উল্লেখও করতে পারবে। পাশাপাশি কমিশনের নির্ধারিত অবাধ প্রতীকের তালিকা থেকে প্রত্যেক পক্ষকে আলাদা প্রতীক নিতে হবে। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছিল।

কমিশনের বক্তব্য, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। দলটির নিয়ন্ত্রণ, নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুই পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করায় বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দুই পক্ষকে সমান অবস্থানে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নির্বাচনে দলের মূল নাম ও প্রতীক ব্যবহারে বাধা এলো।

তৃণমূলের নাম-প্রতীক স্থগিতের নির্দেশে ক্ষুব্ধ রাহুল, কমিশনকে কটাক্ষ

সময় : ১১:৩০:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কলকাতা প্রতিনিধি: নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের নাম ব্যবহারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী দল।

শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে কাজ করে বিরোধী দলগুলোকে দুর্বল করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের (এনসিপি) ভাঙনের উদাহরণ টেনে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন।

রাহুলের বক্তব্য, প্রথমে শিবসেনা, পরে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস এবং এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, একটি দলকে বিভক্ত করার পর তার নির্বাচনী প্রতীকও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি এই ঘটনাকে “ভোটচুরি, সরকারচুরির পর দলচুরি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এগুলো রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা নয়।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই নয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান এমন প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও ভোটারের বিষয়।

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানায়, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর কেউই আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও পৃথক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

কমিশন জানিয়েছে, দুই গোষ্ঠী নিজেদের জন্য পৃথক নাম বেছে নিতে পারবে এবং প্রয়োজনে সেই নামের সঙ্গে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্কের উল্লেখও করতে পারবে। পাশাপাশি কমিশনের নির্ধারিত অবাধ প্রতীকের তালিকা থেকে প্রত্যেক পক্ষকে আলাদা প্রতীক নিতে হবে। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছিল।

কমিশনের বক্তব্য, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। দলটির নিয়ন্ত্রণ, নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুই পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করায় বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দুই পক্ষকে সমান অবস্থানে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নির্বাচনে দলের মূল নাম ও প্রতীক ব্যবহারে বাধা এলো।