০৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির বাধা ও অবাঞ্ছিত ঘোষণার তোয়াক্কা না করে আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানার অনুষ্ঠান

নিউজ ডেস্ক

বিএনপির আপত্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণার পর কড়া নিরাপত্তায় আশুগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রুমিন ফারহানা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: উপজেলা বিএনপি কর্তৃক অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং অনুষ্ঠান করতে না দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মৌখিকভাবে বলার পরও নিজ নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে অনুষ্ঠান করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

শুক্রবার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে উপজেলার ২০২৫ সালের প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রুমিন ফারহানার বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদ স্মরণে উপজেলার আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে মোট ১৯৫ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদে বিএনপিকে নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যের জেরে গত ১২ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল করে উপজেলা বিএনপি। ওই কর্মসূচি থেকেই তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া গত বুধবার অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে তার দুই অনুসারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং উপজেলা বিএনপির নেতারা অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য ইউএনওর কাছে দাবি জানান।

তবে সব আপত্তি এড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করে কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সহস্রাধিক অনুসারী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর ভাষাসৈনিক অলি আহাদ যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যে অবদান রেখেছেন তা আমাদের ইতিহাসে রচিত হয়নি। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের ইতিহাস রচিত হয় রাজনৈতিক বয়ানে এবং ক্ষমতায় থাকা দলের কলমে।”

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে, অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে—এটা রাজনীতিতে কিছু নয়। রাজনীতিতে যেকোনো কথার জবাব মানুষই দেয়।”

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় দেশে প্রবেশ করতে পারেন, যা সংবিধানে পরিষ্কার বলা আছে। পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সরকার বলবে।”

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির বাধা ও অবাঞ্ছিত ঘোষণার তোয়াক্কা না করে আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানার অনুষ্ঠান

সময় : ১২:০০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: উপজেলা বিএনপি কর্তৃক অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং অনুষ্ঠান করতে না দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মৌখিকভাবে বলার পরও নিজ নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে অনুষ্ঠান করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

শুক্রবার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে উপজেলার ২০২৫ সালের প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রুমিন ফারহানার বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদ স্মরণে উপজেলার আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে মোট ১৯৫ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদে বিএনপিকে নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যের জেরে গত ১২ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল করে উপজেলা বিএনপি। ওই কর্মসূচি থেকেই তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া গত বুধবার অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে তার দুই অনুসারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং উপজেলা বিএনপির নেতারা অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য ইউএনওর কাছে দাবি জানান।

তবে সব আপত্তি এড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করে কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সহস্রাধিক অনুসারী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর ভাষাসৈনিক অলি আহাদ যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যে অবদান রেখেছেন তা আমাদের ইতিহাসে রচিত হয়নি। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের ইতিহাস রচিত হয় রাজনৈতিক বয়ানে এবং ক্ষমতায় থাকা দলের কলমে।”

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে, অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে—এটা রাজনীতিতে কিছু নয়। রাজনীতিতে যেকোনো কথার জবাব মানুষই দেয়।”

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় দেশে প্রবেশ করতে পারেন, যা সংবিধানে পরিষ্কার বলা আছে। পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সরকার বলবে।”

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।