সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার, জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কমিটির কর্মকৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক প্রস্তাবগুলোর ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির মূল দায়িত্ব হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়া।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম বৈঠকে কমিটির কার্যপদ্ধতি, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রতিবেদন তৈরির রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। তবে কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
সরকারি দল বিরোধী দলের কাছ থেকে কমিটিতে পাঁচজন সদস্যের নাম চাইলেও বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। কমিটি গঠনের দিনই বিরোধী সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তারা দাবি করেন, সংবিধান সংস্কারের জন্য ভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এতে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রস্তাবের মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পদ্ধতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে।
তবে এসব প্রস্তাবের কয়েকটিতে বিএনপির ভিন্নমত ছিল। দলটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরে এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বিশেষ কমিটি বিদ্যমান সংবিধান, জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ও করা হবে।
বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উত্থাপন করবে। পরে বিলটি নিয়ে সংসদে আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।






















