১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য জ্যাকবকে আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

অপরাধ ডেস্ক

ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহ আল ইসলাম ওরফে জ্যাকব

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর ও ভাটারা থানায় করা পৃথক দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহ আল ইসলাম ওরফে জ্যাকবকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

মিরপুর থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুৎদৌলা আবদুল্লাহ আল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল থেকে বাদী মো. রিফাত হোসেন মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন। দুপুরে আসামিদের নির্দেশে ৩০ থেকে ৪০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন। এতে রিফাতের ডান হাঁটুর ওপরে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে অন্য আন্দোলনকারীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পা থেকে গুলি অপসারণ করা হয়।

একই দিন ভাটারা থানার আরেক হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালতও আবদুল্লাহ আল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. কামাল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাহমুদ হাসানের করা আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভাটারা থানার সামনে পদচারী–সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ইমন নামে এক আন্দোলনকারী দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।

আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আবদুল্লাহ আল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অন্য আসামিদের সঙ্গে আন্দোলন দমনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা এবং অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে গ্রেপ্তার করে। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আজকের আদেশের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার তালিকায় আরও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা যুক্ত হলো।

হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য জ্যাকবকে আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

সময় : ০৫:১২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর ও ভাটারা থানায় করা পৃথক দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহ আল ইসলাম ওরফে জ্যাকবকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

মিরপুর থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুৎদৌলা আবদুল্লাহ আল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল থেকে বাদী মো. রিফাত হোসেন মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন। দুপুরে আসামিদের নির্দেশে ৩০ থেকে ৪০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন। এতে রিফাতের ডান হাঁটুর ওপরে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে অন্য আন্দোলনকারীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পা থেকে গুলি অপসারণ করা হয়।

একই দিন ভাটারা থানার আরেক হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালতও আবদুল্লাহ আল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. কামাল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাহমুদ হাসানের করা আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভাটারা থানার সামনে পদচারী–সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ইমন নামে এক আন্দোলনকারী দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।

আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আবদুল্লাহ আল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অন্য আসামিদের সঙ্গে আন্দোলন দমনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা এবং অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে গ্রেপ্তার করে। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আজকের আদেশের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার তালিকায় আরও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা যুক্ত হলো।