০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, ৩১ দিনের ডিজেল মজুদ: জ্বালানি বিভাগ

নিউজ ডেস্ক

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে এবং সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, ৩১ দিনের ডিজেল মজুদ: জ্বালানি বিভাগ

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগাম ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা থেকেই জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে দেশে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

দেশে কত দিনের জ্বালানি মজুদ আছে?

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে—

  • ডিজেল: ৩১ দিনের মজুদ
  • অকটেন: ৩৬ দিনের মজুদ
  • পেট্রল: ২০ দিনের মজুদ
  • জেট ফুয়েল: ২০ দিনের মজুদ
  • ফার্নেস অয়েল: ২৫ দিনের মজুদ রয়েছে।

আসছে আরও ডিজেল

মনির হোসেন চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ দেশে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছাবে। এছাড়া আগামী আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে।

ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।

গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট

এর বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সময়ে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দুই দিনের মধ্যে সিএনজি সমস্যার সমাধানের আশা

সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, একটি এলএনজি ভাসমান টার্মিনাল (FSRU)-এ আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।

কারিগরি দল এরই মধ্যে মেরামতের কাজ করছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং সিএনজি স্টেশনগুলোর চাপ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিকল্প রুটে জ্বালানি আমদানির প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করে।

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির পর জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্যও আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, ৩১ দিনের ডিজেল মজুদ: জ্বালানি বিভাগ

সময় : ০৬:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, ৩১ দিনের ডিজেল মজুদ: জ্বালানি বিভাগ

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগাম ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা থেকেই জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে দেশে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

দেশে কত দিনের জ্বালানি মজুদ আছে?

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে—

  • ডিজেল: ৩১ দিনের মজুদ
  • অকটেন: ৩৬ দিনের মজুদ
  • পেট্রল: ২০ দিনের মজুদ
  • জেট ফুয়েল: ২০ দিনের মজুদ
  • ফার্নেস অয়েল: ২৫ দিনের মজুদ রয়েছে।

আসছে আরও ডিজেল

মনির হোসেন চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ দেশে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছাবে। এছাড়া আগামী আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে।

ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।

গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট

এর বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সময়ে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দুই দিনের মধ্যে সিএনজি সমস্যার সমাধানের আশা

সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, একটি এলএনজি ভাসমান টার্মিনাল (FSRU)-এ আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।

কারিগরি দল এরই মধ্যে মেরামতের কাজ করছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং সিএনজি স্টেশনগুলোর চাপ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিকল্প রুটে জ্বালানি আমদানির প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করে।

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির পর জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্যও আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।