১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই জাতীয় সনদ ধরে সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ কমিটি

নিউজ ডেস্ক

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি ধরে দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে সংশোধনী সুপারিশ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত আকাঙ্ক্ষাকে ভিত্তি করেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুধু সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হবে।

আইনমন্ত্রী জানান, খুব শিগগিরই জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করবে কমিটি।

এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে যারা কাজ করেছেন, তাদের সঙ্গেও আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, যাতে সনদের ধারাগুলো সাংবিধানিক ভাষায় রূপ দেওয়া যায়।

কমিটির গঠন নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৭ সদস্যের কাঠামো নির্ধারণ করা হলেও এখন ১২ জন সদস্য রয়েছেন। বিএনপিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি জানান, বিরোধী দল সদস্যদের নাম দিলে সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বৈঠকে অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদের মধ্যেই তাদের অধিকাংশ মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালতের ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ নীতি অক্ষুণ্ন রাখা হবে এবং কোনো রাজনৈতিক আবেগ থেকে মূল কাঠামো পরিবর্তন করা হবে না।

কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধান শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দলিল। তাই সংশোধনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হবে।

কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটি শুধু নিজেদের আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করবে না। সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা সংশোধনী প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আমরা উদার ও উন্মুক্তভাবে সবার মতামত শুনব। যেখানে যেসব সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। পরে সংসদে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম সংশোধনী গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাও সংশোধনী প্রস্তাবে প্রতিফলিত হবে।

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালীব রহমান, নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল ও মো. অলি উল্লাহ।

প্রথম বৈঠকে মো. অলি উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন না।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ ধরে সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ কমিটি

সময় : ০৬:৪১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি ধরে দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে সংশোধনী সুপারিশ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত আকাঙ্ক্ষাকে ভিত্তি করেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুধু সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হবে।

আইনমন্ত্রী জানান, খুব শিগগিরই জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করবে কমিটি।

এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে যারা কাজ করেছেন, তাদের সঙ্গেও আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, যাতে সনদের ধারাগুলো সাংবিধানিক ভাষায় রূপ দেওয়া যায়।

কমিটির গঠন নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৭ সদস্যের কাঠামো নির্ধারণ করা হলেও এখন ১২ জন সদস্য রয়েছেন। বিএনপিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি জানান, বিরোধী দল সদস্যদের নাম দিলে সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বৈঠকে অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদের মধ্যেই তাদের অধিকাংশ মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালতের ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ নীতি অক্ষুণ্ন রাখা হবে এবং কোনো রাজনৈতিক আবেগ থেকে মূল কাঠামো পরিবর্তন করা হবে না।

কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধান শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দলিল। তাই সংশোধনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হবে।

কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটি শুধু নিজেদের আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করবে না। সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা সংশোধনী প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আমরা উদার ও উন্মুক্তভাবে সবার মতামত শুনব। যেখানে যেসব সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। পরে সংসদে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম সংশোধনী গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাও সংশোধনী প্রস্তাবে প্রতিফলিত হবে।

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালীব রহমান, নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল ও মো. অলি উল্লাহ।

প্রথম বৈঠকে মো. অলি উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন না।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।