০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হলে ঢুকতে শিবিরের চেষ্টা, পুলিশের বাধা

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকার বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশের চেষ্টা করলে শিবিরের নেতা-কর্মীদের আটকে দেয় পুলিশ।

রাজধানীর বকশীবাজারের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষের পর হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ৪ আগস্ট পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর হলের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রদলের হাতে যাওয়ার দাবি উঠেছে। এরপর কয়েক দফায় হলে প্রবেশের চেষ্টা করেও পুলিশ ও মাদ্রাসা প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ায় উঠতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা।

শনিবার বেলা দুইটার দিকে বকশীবাজার মোড়ে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের হলে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। এর আগে গত বুধবারও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। সেদিনও পুলিশ তাঁদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।

আজ দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বকশীবাজার মোড়ে অবস্থান করেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁরা সরে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড তুলে নেয়।

সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল আলীম অভিযোগ করেন, হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো সহযোগিতা করছে না। তাঁর দাবি, হলে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছেন। তবে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীদেরই হলে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আমিনুল কবির বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছে, তাঁরা প্রবেশপত্র দেখিয়ে হলে যেতে পারছেন। বৈধ শিক্ষার্থীরাও হলে যেতে চাইলে যেতে দেওয়া হচ্ছে। তবে দলবল নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, এতে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে ৪ আগস্ট দুপুরে আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলের একটি কক্ষে তালা দেওয়া নিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করেন। তখন কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ওই সময় তাঁদের ব্যবহৃত কক্ষগুলোতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ল্যাপটপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা এখনো হলে অবস্থান করছেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই বলে জানা গেছে। হলে অবস্থান করা এবং নিজেকে মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে দাবি করা ছাত্রদল কর্মী সাদ চৌধুরী বলেন, ওই দিন শিবিরের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কক্ষ ভাঙচুর করেছিলেন। পরে তাঁরা হলে প্রবেশ করেন।

সাদ চৌধুরীর দাবি, বর্তমানে হলে ৬০ থেকে ৭০ জন ছাত্রদল কর্মী অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁরা সহাবস্থানে বিশ্বাসী। শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে উঠতে চাইলে হল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে উঠতে হবে। আগের মতো সব কক্ষ এককভাবে দখলে রাখার সুযোগ থাকবে না।

হলে বর্তমানে কারা অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে হলের প্রভোস্ট মো. মোস্তফা কামাল কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানান, হলের বিষয়ে এখন সহকারী অধ্যক্ষ জানেন। সহকারী অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল করিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে থাকার কথা জানান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার

এদিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন সড়ক থেকে ককটেলসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি পরীক্ষা করে নিষ্ক্রিয় করেন।

শনিবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলসংলগ্ন মূল সড়কের পাশে কালো স্কচটেপে মোড়ানো বস্তুটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়।

ডিএমপির লালবাগ জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, কালো স্কচটেপে মোড়ানো ককটেলসদৃশ একটি বস্তু রাস্তায় পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, সেটি তেমন কিছু নয়। এরপর সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

আলিয়া মাদ্রাসার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের জেরে শনিবার সকালেও কিছুটা উত্তেজনা ছিল। তবে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হলে ঢুকতে শিবিরের চেষ্টা, পুলিশের বাধা

সময় : ০৭:০৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বকশীবাজারের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষের পর হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ৪ আগস্ট পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর হলের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রদলের হাতে যাওয়ার দাবি উঠেছে। এরপর কয়েক দফায় হলে প্রবেশের চেষ্টা করেও পুলিশ ও মাদ্রাসা প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ায় উঠতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা।

শনিবার বেলা দুইটার দিকে বকশীবাজার মোড়ে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের হলে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। এর আগে গত বুধবারও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। সেদিনও পুলিশ তাঁদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।

আজ দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বকশীবাজার মোড়ে অবস্থান করেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁরা সরে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড তুলে নেয়।

সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল আলীম অভিযোগ করেন, হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো সহযোগিতা করছে না। তাঁর দাবি, হলে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছেন। তবে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীদেরই হলে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আমিনুল কবির বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছে, তাঁরা প্রবেশপত্র দেখিয়ে হলে যেতে পারছেন। বৈধ শিক্ষার্থীরাও হলে যেতে চাইলে যেতে দেওয়া হচ্ছে। তবে দলবল নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, এতে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে ৪ আগস্ট দুপুরে আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলের একটি কক্ষে তালা দেওয়া নিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করেন। তখন কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ওই সময় তাঁদের ব্যবহৃত কক্ষগুলোতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ল্যাপটপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা এখনো হলে অবস্থান করছেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই বলে জানা গেছে। হলে অবস্থান করা এবং নিজেকে মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে দাবি করা ছাত্রদল কর্মী সাদ চৌধুরী বলেন, ওই দিন শিবিরের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কক্ষ ভাঙচুর করেছিলেন। পরে তাঁরা হলে প্রবেশ করেন।

সাদ চৌধুরীর দাবি, বর্তমানে হলে ৬০ থেকে ৭০ জন ছাত্রদল কর্মী অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁরা সহাবস্থানে বিশ্বাসী। শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে উঠতে চাইলে হল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে উঠতে হবে। আগের মতো সব কক্ষ এককভাবে দখলে রাখার সুযোগ থাকবে না।

হলে বর্তমানে কারা অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে হলের প্রভোস্ট মো. মোস্তফা কামাল কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানান, হলের বিষয়ে এখন সহকারী অধ্যক্ষ জানেন। সহকারী অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল করিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে থাকার কথা জানান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার

এদিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন সড়ক থেকে ককটেলসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি পরীক্ষা করে নিষ্ক্রিয় করেন।

শনিবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলসংলগ্ন মূল সড়কের পাশে কালো স্কচটেপে মোড়ানো বস্তুটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়।

ডিএমপির লালবাগ জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, কালো স্কচটেপে মোড়ানো ককটেলসদৃশ একটি বস্তু রাস্তায় পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, সেটি তেমন কিছু নয়। এরপর সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

আলিয়া মাদ্রাসার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের জেরে শনিবার সকালেও কিছুটা উত্তেজনা ছিল। তবে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।