০৩:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের অস্ত্র কিনতে ইউএইর আলোচনা, ফাঁস ই-মেইলে মিলল তথ্য

নিউজ ডেস্ক

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী ইসরাইলের কাছ থেকে অস্ত্র ও নজরদারি প্রযুক্তি কেনার আলোচনা করেছিল ইউএই।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরাইলের কাছ থেকে উন্নত অস্ত্র ও নজরদারি প্রযুক্তি কেনার বিষয়ে আলোচনা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ২০২২ সালে ইয়েমেনের হুথিদের আবুধাবিতে হামলার পর ইসরাইলের বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের সঙ্গে এ আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ ও ড্রপ সাইট নিউজ ফাঁস হওয়া কিছু ই-মেইলের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালের শুরু পর্যন্ত এলবিট সিস্টেমস ও ইউএইর মধ্যে হার্মিস-৯০০ ড্রোন, স্কাইআই নজরদারি ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।

২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি হুথিরা আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর অস্ত্র চুক্তিকে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে ফাঁস হওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ড্রোন বিক্রির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫৪ মিলিয়ন ডলার। পরে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় তা বেড়ে প্রায় ২২৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে শেষ পর্যন্ত এসব ড্রোন সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

ফাঁস হওয়া ই-মেইলগুলো সংগ্রহ করেছে ‘হানদালা’ নামের একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী। তাদের সঙ্গে ইরান সরকারের সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, প্রকাশিত তথ্য দুটি সংবাদমাধ্যম যাচাই করেছে।

হার্মিস-৯০০ ইসরাইলের তৈরি একটি উন্নত গোয়েন্দা ও নজরদারি ড্রোন। এটি প্রায় ৯৯০ পাউন্ড পর্যন্ত সরঞ্জাম বহন করতে পারে। অন্যদিকে স্কাইআই সেন্সর ব্যবস্থায় থাকা উচ্চক্ষমতার ক্যামেরার মাধ্যমে বড় এলাকা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

ফাঁস হওয়া নথিতে আরও জানা গেছে, ২০২২ সালের মার্চে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ইউএই সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল এমন একটি নজরদারি ব্যবস্থা, যা সীমান্তের বাইরে থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ শনাক্ত করতে সক্ষম।

এর আগে ইউএইর আবুধাবি বিমানবন্দর ও তেলবাহী ট্রাক লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

ইসরাইল ও ইউএই ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়তে থাকে।

ফাঁস হওয়া ই-মেইলে স্কাইস্ট্রাইকার লয়টারিং মিউনিশন এবং হার্মিস-৬৫০ ড্রোন নিয়েও আলোচনার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব তথ্য ইসরাইল ও ইউএইর ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইসরাইলি সামরিক প্রযুক্তির চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরছে।

ইসরাইলের অস্ত্র কিনতে ইউএইর আলোচনা, ফাঁস ই-মেইলে মিলল তথ্য

সময় : ০৩:২৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরাইলের কাছ থেকে উন্নত অস্ত্র ও নজরদারি প্রযুক্তি কেনার বিষয়ে আলোচনা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ২০২২ সালে ইয়েমেনের হুথিদের আবুধাবিতে হামলার পর ইসরাইলের বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের সঙ্গে এ আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ ও ড্রপ সাইট নিউজ ফাঁস হওয়া কিছু ই-মেইলের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালের শুরু পর্যন্ত এলবিট সিস্টেমস ও ইউএইর মধ্যে হার্মিস-৯০০ ড্রোন, স্কাইআই নজরদারি ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।

২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি হুথিরা আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর অস্ত্র চুক্তিকে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে ফাঁস হওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ড্রোন বিক্রির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫৪ মিলিয়ন ডলার। পরে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় তা বেড়ে প্রায় ২২৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে শেষ পর্যন্ত এসব ড্রোন সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

ফাঁস হওয়া ই-মেইলগুলো সংগ্রহ করেছে ‘হানদালা’ নামের একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী। তাদের সঙ্গে ইরান সরকারের সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, প্রকাশিত তথ্য দুটি সংবাদমাধ্যম যাচাই করেছে।

হার্মিস-৯০০ ইসরাইলের তৈরি একটি উন্নত গোয়েন্দা ও নজরদারি ড্রোন। এটি প্রায় ৯৯০ পাউন্ড পর্যন্ত সরঞ্জাম বহন করতে পারে। অন্যদিকে স্কাইআই সেন্সর ব্যবস্থায় থাকা উচ্চক্ষমতার ক্যামেরার মাধ্যমে বড় এলাকা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

ফাঁস হওয়া নথিতে আরও জানা গেছে, ২০২২ সালের মার্চে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ইউএই সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল এমন একটি নজরদারি ব্যবস্থা, যা সীমান্তের বাইরে থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ শনাক্ত করতে সক্ষম।

এর আগে ইউএইর আবুধাবি বিমানবন্দর ও তেলবাহী ট্রাক লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

ইসরাইল ও ইউএই ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়তে থাকে।

ফাঁস হওয়া ই-মেইলে স্কাইস্ট্রাইকার লয়টারিং মিউনিশন এবং হার্মিস-৬৫০ ড্রোন নিয়েও আলোচনার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব তথ্য ইসরাইল ও ইউএইর ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইসরাইলি সামরিক প্রযুক্তির চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরছে।