১১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেজা কাপড় শুকাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট পুত্রবধূকে, বাঁচাতে গিয়ে শ্বশুর সহ দুজনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

রাজশাহীর চারঘাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের শ্বশুর ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই বাড়ির শ্বশুর ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা একটার দিকে উপজেলার অনুপামপুর কলোনিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ দুজনের মৃত্যুতে ওই বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত দুজন হলেন শমসের আলী (৬০) ও তাঁর পুত্রবধূ তানিয়া বেগম (২৫)। তানিয়া বেগমের স্বামীর নাম শরীফুল ইসলাম।

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, তানিয়া বেগমের বাড়িতে তাঁর চাচি নাসরিন বেগম এবং দুই চাচাতো বোন মীম ও কেয়া বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করে কথা বলার সময় তানিয়া উঠানে কাপড় শুকানোর জন্য টানানো তারের ওপর একটি ভেজা গামছা দিচ্ছিলেন।

ওই তারটি আগে থেকেই বিদ্যুতায়িত ছিল। বিষয়টি তানিয়া বুঝতে পারেননি। ভেজা কাপড় তারের ওপর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

এ সময় পাশের বারান্দায় তানিয়ার শ্বশুর শমসের আলী গরুর জন্য ঘাস কুচি করছিলেন। পুত্রবধূকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তিনি দৌড়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

পরে স্থানীয় লোকজন শমসের আলী ও তানিয়া বেগমকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তাকদিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের তারের ওপর ভেজা কাপড় দিতে গিয়ে প্রথমে তানিয়া বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর শ্বশুর শমসের আলীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ ঘটনায় সবাই মর্মাহত।

চারঘাট মডেল থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে দুজনের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। হাসিমুখে কথা বলতে বলতে একই বাড়ির দুজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আরও জানান, নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি চেয়েছেন। এ ঘটনায় কারও কোনো অভিযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হবে।

দুজনের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।


ভেজা কাপড় শুকাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট পুত্রবধূকে, বাঁচাতে গিয়ে শ্বশুর সহ দুজনের মৃত্যু

সময় : ০৬:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই বাড়ির শ্বশুর ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা একটার দিকে উপজেলার অনুপামপুর কলোনিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ দুজনের মৃত্যুতে ওই বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত দুজন হলেন শমসের আলী (৬০) ও তাঁর পুত্রবধূ তানিয়া বেগম (২৫)। তানিয়া বেগমের স্বামীর নাম শরীফুল ইসলাম।

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, তানিয়া বেগমের বাড়িতে তাঁর চাচি নাসরিন বেগম এবং দুই চাচাতো বোন মীম ও কেয়া বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করে কথা বলার সময় তানিয়া উঠানে কাপড় শুকানোর জন্য টানানো তারের ওপর একটি ভেজা গামছা দিচ্ছিলেন।

ওই তারটি আগে থেকেই বিদ্যুতায়িত ছিল। বিষয়টি তানিয়া বুঝতে পারেননি। ভেজা কাপড় তারের ওপর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

এ সময় পাশের বারান্দায় তানিয়ার শ্বশুর শমসের আলী গরুর জন্য ঘাস কুচি করছিলেন। পুত্রবধূকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তিনি দৌড়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

পরে স্থানীয় লোকজন শমসের আলী ও তানিয়া বেগমকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তাকদিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের তারের ওপর ভেজা কাপড় দিতে গিয়ে প্রথমে তানিয়া বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর শ্বশুর শমসের আলীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ ঘটনায় সবাই মর্মাহত।

চারঘাট মডেল থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে দুজনের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। হাসিমুখে কথা বলতে বলতে একই বাড়ির দুজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আরও জানান, নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি চেয়েছেন। এ ঘটনায় কারও কোনো অভিযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হবে।

দুজনের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।