তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি, কারণ হতে পারে দ্রুত জৈবিক বার্ধক্য
দ্রুত জৈবিক বার্ধক্যে বাড়ছে তরুণদের ক্যানসারের ঝুঁকি: নতুন গবেষণায় উদ্বেগ
বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা আগের প্রজন্মের তুলনায় দ্রুত জৈবিক (Biological) বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছেন। গবেষকদের মতে, এই দ্রুত বার্ধক্যই কম বয়সে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nature Medicine-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন গত তিন দশক ধরে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা।
কী বলছে গবেষণা?
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জৈবিক বয়স একই জীবনপর্যায়ে থাকা ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি।
এছাড়া ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণদের শরীরেও ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সালে জন্ম নেওয়াদের তুলনায় দ্রুত জৈবিক বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
জৈবিক বয়স কী?
জন্মসনদে উল্লেখ থাকা বয়সের সঙ্গে জৈবিক বয়স এক নয়। জৈবিক বয়স নির্ধারণ করে শরীরের কোষ ও টিস্যুগুলো কত দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে।
গবেষকের মন্তব্য
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক এবং গবেষণার সহ-লেখক ইন কাও বলেন, অনেক তরুণের শরীরে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই কোষীয় ও মলিকুলার স্তরে বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের সঙ্গে কম বয়সে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার হার বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ
British Medical Journal (BMJ)-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালের পর বিশ্বব্যাপী ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে নতুন করে ক্যানসার শনাক্তের হার প্রায় ৭৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পরিবেশগত প্রভাব, খাদ্যাভ্যাস এবং জৈবিক ঝুঁকিসহ একাধিক কারণ এ প্রবণতার জন্য দায়ী হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
শিশুরাও ঝুঁকির বাইরে নয়
European Cancer Information System-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশে প্রায় ১৩ হাজার ৮০০ শিশু ও কিশোর-কিশোরী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম বয়সে ক্যানসারের প্রকৃত কারণ এবং জৈবিক বার্ধক্যের ভূমিকা নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালিয়ে যাওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।

























