নামাজের শেষের দিকে হাজরে আসওয়াদের দিকে দৌঁড়ের বিষয়ে যা বললেন শায়েখ সুদাইস
তবে এই পুণ্য অর্জনের তীব্র ব্যাকুলতা কখনো কখনো আবেগের অতিশয্য তৈরি করে, যা ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করতে পারে। সম্প্রতি পবিত্র মসজিদুল হারামে নামাজ শেষ হতে না হতেই হাজরে আসওয়াদের দিকে ছুটে যাওয়ার এমন একটি নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।
এই বিষয়ে মুসল্লি ও হাজিদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন পবিত্র হারামাইনের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান এবং গ্র্যান্ড মসজিদের প্রবীণ ইমাম শেখ আবদুর রহমান আল-সুদাইস। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নামাজের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগে তাড়াহুড়ো করলে নামাজই বাতিল হয়ে যেতে পারে
গত ২৩ জুন, ২০২৬ তারিখে মসজিদুল হারামে দেওয়া এক বিশেষ দারসে শেখ আবদুর রহমান আল-সুদাইস কাবা প্রাঙ্গণের এই সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, অনেক সময় দেখা যায় ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার উপক্রম হলেই কিছু হাজি বা মুসল্লির মনোযোগ নামাজের চেয়ে হাজরে আসওয়াদ ও মুলতাজামের দিকে বেশি চলে যায়। ইমাম সাহেব নামাজের শেষ ধাপ অর্থাৎ সালাম ফেরানো শুরু করার সাথে সাথেই অনেকে স্থান পরিবর্তন করতে শুরু করেন। এমনকি কোনো কোনো মুসল্লি ইমামের দ্বিতীয় সালাম শেষ হওয়ার আগেই নিজের জায়গা ছেড়ে দৌড় বা দ্রুত হাঁটা শুরু করেন।
ইসলামি শরিয়তের বিধান উল্লেখ করে শেখ আল-সুদাইস ব্যাখ্যা করেন, জামায়াতে নামাজ পড়ার মূল শর্তই হলো পুরোপুরি ইমামের অনুগত থাকা এবং তাকে অনুসরণ করা। ইমামের আগে বেড়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। একজন মুসল্লিকে নামাজের একেবারে শেষ মুহূর্ত (দ্বিতীয় সালামের শেষ শব্দ) পর্যন্ত ইমামের পেছনে শান্তভাবে অবস্থান করতে হবে।
জামায়াত ভঙ্গের কারণ: ইমামের সালাম শেষ করার আগেই তাড়াহুড়ো করে ছুটে যাওয়ার অর্থ হলো তাকে অনুসরণ করার বদলে তার চেয়ে এগিয়ে যাওয়া। শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে বা অসতর্কতাবশত ইমামের আগে কোনো রুকন বা আমল করে ফেললে সেই নামাজ বাতিল বা নষ্ট হয়ে যায়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যাটি কমিয়ে আনতে এবং মুসল্লিদের বিভ্রান্তি দূর করতে গ্র্যান্ড মসজিদের ইমামদের প্রতিও একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। শেখ সুদাইস জানান, ইমামদের বলা হয়েছে তারা যেন নামাজের শেষের সালাম ফেরানোর প্রক্রিয়াটি খুব বেশি দীর্ঘায়িত বা টেনে বড় না করেন।
অনেক সময় দুই সালামের মাঝে ইমাম সাহেব দীর্ঘ বিরতি দিলে মুসল্লিরা বিভ্রান্ত হন এবং ভাবেন নামাজ বুঝি শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা ভুলবশত সময়ের আগেই নড়ে ওঠেন এবং অজান্তেই ইমামের আগে চলে যান। সালাম ফেরানোর গতি স্বাভাবিক ও সংক্ষিপ্ত রাখলে এই জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা কিংবা মুলতাজামে জড়িয়ে ধরে কান্না করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, তবে তা সুন্নাত বা নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, জামায়াতের সাথে ফরজ নামাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর আবশ্যিক কর্তব্য। একটি নফল সওয়াব অর্জনের তাড়াহুড়োয় যদি মূল ফরজ নামাজই বাতিল হয়ে যায়, তবে তা হবে চরম বিপর্যয়।
শেখ আল-সুদাইসের এই সময়োপযোগী সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে আসা হাজিদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহর ঘরে ইবাদতের মূল সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং পরিপূর্ণ একাগ্রতার মাঝে, পবিত্র কাবার ইমামের এই বার্তাটিই যেন সেই পরম সত্যকে আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল।


























