০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের জন্যও কি ‘হুই প্রোটিন’? জানুন প্রয়োজন ও উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

হুই প্রোটিন শুধু পুরুষদের জন্য নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী নারীরাও এটি গ্রহণ করতে পারেন।

‘হুই প্রোটিন’ কি শুধু শরীর বড় করার জন্য পুরুষদের? এমন প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়। তবে এই ধারণা আসলে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এই ধারণার কারণে অনেক নারী হুই প্রোটিন থেকে দূরে থাকেন।

দুধ থেকে তৈরি উচ্চমানের প্রাকৃতিক প্রোটিন হিসেবে হুই প্রোটিন ব্যায়াম, শরীরের পুনরুদ্ধার এবং পেশি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণা নারীদের ব্যায়াম ও পুষ্টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।

প্রতিদিন দুটি ডিম খেলেই কি যথেষ্ট প্রোটিন পাওয়া যায়?

প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা বোঝার ক্ষেত্রে শরীরবৃত্তীয় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন নারী-পুরুষভেদে আলাদা কোনো পুষ্টি উপাদান নয়। লিঙ্গ নির্বিশেষে মানবদেহের প্রতিটি কোষ টিস্যু মেরামত, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হরমোন তৈরি এবং পেশির গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রোটিনের ওপর নির্ভর করে।

নিউট্রিশন ও আয়রন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে মূল পার্থক্য প্রোটিনের ধরনের ক্ষেত্রে নয়; বরং শরীরের ওজন ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় প্রয়োজনীয় পরিমাণে।

নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে ব্যায়াম করা নারী-পুরুষ উভয়েরই সাধারণত শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ দশমিক ২ থেকে ২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে। কাজ, পরিবার ও অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যায়াম করা নারীদের ক্ষেত্রে শুধু খাবারের মাধ্যমে প্রতিদিন এই লক্ষ্যে পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

নারীদের পেশি কি অতিরিক্ত বড় হয়ে যায়?

হুই প্রোটিন নিয়ে নারীদের অন্যতম একটি ভয় হলো এটি খেলে শরীর অতিরিক্ত পেশিবহুল বা ভারী হয়ে যাবে। তবে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পেশি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং নারীদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই এই হরমোনের পরিমাণ পুরুষদের তুলনায় অনেক কম।

চিকিৎসকদের ভাষায়, হুই প্রোটিনের শেক পান করলেই শরীরে হঠাৎ করে পেশি বড় হওয়ার কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয় না। বরং এটি শরীরকে ইতোমধ্যে থাকা পেশি মেরামত ও ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে।

পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে নারীরা ব্যায়ামের পর দ্রুত পুনরুদ্ধার, তুলনামূলক স্থিতিশীল শক্তি এবং ওজন কমানোর সময় পেশি ধরে রাখার সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষ করে শরীরের চর্বি কমানোর সময় শুধু চর্বি নয়, পেশিও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পর্যাপ্ত প্রোটিন এই ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

খাবারের বদলে হুই কেন?

ব্যস্ত জীবনে দৈনিক প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে হুই প্রোটিন একটি সহজ উপায় হতে পারে। হুই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোটিন, যাতে নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এটি শরীর সহজে ব্যবহার করতে পারে এবং তুলনামূলক দ্রুত হজম হয়। ফলে ব্যায়ামের পর এটি গ্রহণ করা সুবিধাজনক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব নারী সকালে ব্যায়াম করে কাজে যান, দুপুরের খাবার কর্মস্থলে খান এবং সন্ধ্যায় পরিবারের জন্য রান্না করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ হুই প্রোটিন প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কার্যকর হতে পারে।

তবেহুই প্রোটিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কিছু বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। এর মধ্যে ল্যাকটোজ অসহ প্রতিদিনের খাবারই হওয়া উচিত প্রোটিনের প্রধান উৎস। সাপ্লিমেন্টের কাজ হলো খাবার থেকে পূরণ না হওয়া ঘাটতি মেটানো; নিয়মিত খাবারের বিকল্প হওয়া নয়।

দুধ সহ্য না হলে কী করবেন?

হুই প্রোটিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কিছু বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। এর মধ্যে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা অন্যতম।

যাদের দুধজাত খাবার হজমে সমস্যা হয়, তারা চাইলে মটরশুঁটি বা সয়া থেকে তৈরি প্ল্যান্ট-বেসড প্রোটিন ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড ও হজমযোগ্যতার দিক থেকে এগুলোও কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

অর্থাৎ প্রোটিনের ধরন বেছে নেওয়ার বিষয়টি নারী-পুরুষভেদে নয়; বরং ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন, খাদ্যাভ্যাস ও সহনশীলতার ওপর নির্ভর করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটিনের প্রয়োজন নির্ধারণ করা উচিত শারীরিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত লক্ষ্য এবং শরীরের গঠনের ভিত্তিতে। কে ব্যায়াম করবেন বা ভারোত্তোলন করবেন, তা নিয়ে পুরোনো ধারণার ভিত্তিতে প্রোটিন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

তাই হুই প্রোটিন শুধু পুরুষদের জন্য—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী এর ব্যবহার বিবেচনা করা যেতে পারে।

নারীদের জন্যও কি ‘হুই প্রোটিন’? জানুন প্রয়োজন ও উপকারিতা

সময় : ০৩:১৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘হুই প্রোটিন’ কি শুধু শরীর বড় করার জন্য পুরুষদের? এমন প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়। তবে এই ধারণা আসলে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এই ধারণার কারণে অনেক নারী হুই প্রোটিন থেকে দূরে থাকেন।

দুধ থেকে তৈরি উচ্চমানের প্রাকৃতিক প্রোটিন হিসেবে হুই প্রোটিন ব্যায়াম, শরীরের পুনরুদ্ধার এবং পেশি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণা নারীদের ব্যায়াম ও পুষ্টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।

প্রতিদিন দুটি ডিম খেলেই কি যথেষ্ট প্রোটিন পাওয়া যায়?

প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা বোঝার ক্ষেত্রে শরীরবৃত্তীয় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন নারী-পুরুষভেদে আলাদা কোনো পুষ্টি উপাদান নয়। লিঙ্গ নির্বিশেষে মানবদেহের প্রতিটি কোষ টিস্যু মেরামত, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হরমোন তৈরি এবং পেশির গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রোটিনের ওপর নির্ভর করে।

নিউট্রিশন ও আয়রন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে মূল পার্থক্য প্রোটিনের ধরনের ক্ষেত্রে নয়; বরং শরীরের ওজন ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় প্রয়োজনীয় পরিমাণে।

নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে ব্যায়াম করা নারী-পুরুষ উভয়েরই সাধারণত শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ দশমিক ২ থেকে ২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে। কাজ, পরিবার ও অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যায়াম করা নারীদের ক্ষেত্রে শুধু খাবারের মাধ্যমে প্রতিদিন এই লক্ষ্যে পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

নারীদের পেশি কি অতিরিক্ত বড় হয়ে যায়?

হুই প্রোটিন নিয়ে নারীদের অন্যতম একটি ভয় হলো এটি খেলে শরীর অতিরিক্ত পেশিবহুল বা ভারী হয়ে যাবে। তবে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পেশি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং নারীদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই এই হরমোনের পরিমাণ পুরুষদের তুলনায় অনেক কম।

চিকিৎসকদের ভাষায়, হুই প্রোটিনের শেক পান করলেই শরীরে হঠাৎ করে পেশি বড় হওয়ার কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয় না। বরং এটি শরীরকে ইতোমধ্যে থাকা পেশি মেরামত ও ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে।

পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে নারীরা ব্যায়ামের পর দ্রুত পুনরুদ্ধার, তুলনামূলক স্থিতিশীল শক্তি এবং ওজন কমানোর সময় পেশি ধরে রাখার সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষ করে শরীরের চর্বি কমানোর সময় শুধু চর্বি নয়, পেশিও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পর্যাপ্ত প্রোটিন এই ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

খাবারের বদলে হুই কেন?

ব্যস্ত জীবনে দৈনিক প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে হুই প্রোটিন একটি সহজ উপায় হতে পারে। হুই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোটিন, যাতে নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এটি শরীর সহজে ব্যবহার করতে পারে এবং তুলনামূলক দ্রুত হজম হয়। ফলে ব্যায়ামের পর এটি গ্রহণ করা সুবিধাজনক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব নারী সকালে ব্যায়াম করে কাজে যান, দুপুরের খাবার কর্মস্থলে খান এবং সন্ধ্যায় পরিবারের জন্য রান্না করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ হুই প্রোটিন প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কার্যকর হতে পারে।

তবেহুই প্রোটিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কিছু বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। এর মধ্যে ল্যাকটোজ অসহ প্রতিদিনের খাবারই হওয়া উচিত প্রোটিনের প্রধান উৎস। সাপ্লিমেন্টের কাজ হলো খাবার থেকে পূরণ না হওয়া ঘাটতি মেটানো; নিয়মিত খাবারের বিকল্প হওয়া নয়।

দুধ সহ্য না হলে কী করবেন?

হুই প্রোটিন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কিছু বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। এর মধ্যে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা অন্যতম।

যাদের দুধজাত খাবার হজমে সমস্যা হয়, তারা চাইলে মটরশুঁটি বা সয়া থেকে তৈরি প্ল্যান্ট-বেসড প্রোটিন ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড ও হজমযোগ্যতার দিক থেকে এগুলোও কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

অর্থাৎ প্রোটিনের ধরন বেছে নেওয়ার বিষয়টি নারী-পুরুষভেদে নয়; বরং ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন, খাদ্যাভ্যাস ও সহনশীলতার ওপর নির্ভর করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটিনের প্রয়োজন নির্ধারণ করা উচিত শারীরিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত লক্ষ্য এবং শরীরের গঠনের ভিত্তিতে। কে ব্যায়াম করবেন বা ভারোত্তোলন করবেন, তা নিয়ে পুরোনো ধারণার ভিত্তিতে প্রোটিন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

তাই হুই প্রোটিন শুধু পুরুষদের জন্য—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী এর ব্যবহার বিবেচনা করা যেতে পারে।