বুকের ব্যথা কি গ্যাস, নাকি হার্ট অ্যাটাক? যেসব লক্ষণে বুঝবেন পার্থক্য
বুকের ব্যথা গ্যাসের কারণে নাকি হার্ট অ্যাটাকের সংকেত, তা বোঝার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ জানা জরুরি।
বুকে হঠাৎ ব্যথা উঠলেই অনেকেই সেটিকে ‘গ্যাসের ব্যথা’ মনে করেন। কেউ কেউ অ্যান্টাসিড বা গ্যাসের ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করেন ব্যথা কমার জন্য। কিন্তু বুকের সব ব্যথা গ্যাস বা অ্যাসিডিটির কারণে হয় না। কখনো কখনো এটি হার্ট অ্যাটাকের সতর্কসংকেতও হতে পারে। তাই বুকের ব্যথার ধরন ও সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
গ্যাস বা অ্যাসিডিটির কারণে সাধারণত বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়া, টক ঢেকুর, পেটফাঁপা, খাবারের পর অস্বস্তি কিংবা মুখে টক বা তেতো তরল উঠে আসার মতো সমস্যা হতে পারে। ঝাল বা চর্বিযুক্ত খাবারের পর কিংবা শোয়ার সময় এসব উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী কিছু চেপে বসার মতো অনুভূতি, শক্ত করে ধরার মতো ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। এই অস্বস্তি এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা শরীরের ওপরের অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ সবসময় তীব্র বা একই ধরনের হয় না। কখনো উপসর্গ মৃদু হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা কমে গিয়ে আবার ফিরে আসতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বুকের অস্বস্তির পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, পিঠ বা চোয়ালে ব্যথা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো তুলনামূলক কম পরিচিত লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
এ কারণেই শুধু ‘গ্যাস হয়েছে’ ধরে নিয়ে বুকের ব্যথা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বুকের মাঝখানে চাপ বা অস্বস্তির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব, মাথা ঘোরা কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে ব্যথা কতক্ষণ থাকবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা নিরাপদ নয়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও হার্ট অ্যাটাকের সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে হৃদপেশির ক্ষতি কমানোর সুযোগ বাড়ে।
তাই বুকের ব্যথাকে শুধু গ্যাসের সমস্যা ধরে নিয়ে নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট না করে, সন্দেহজনক উপসর্গ থাকলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে বা স্থানীয় জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, প্রতিটি বুকব্যথা হার্ট অ্যাটাক নয়। তবে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকলে তা গ্যাস ভেবে অবহেলা করাও বিপজ্জনক। বুকের ব্যথার সঙ্গে থাকা লক্ষণগুলো খেয়াল করা এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে জীবন বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
























