সপ্তাহে ৭৫ মিনিট হাঁটলেই কমবে পেটের মেদ, বলছে গবেষণা
স্বাস্থ্য ডেস্ক:
ওজন কমানো ও পেটের মেদ ঝরানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। ব্যস্ত জীবনযাপনে নিয়মিত ব্যায়ামের সময় না পেলেও সপ্তাহে মাত্র ৭৫ মিনিট দ্রুত গতিতে বিরতি দিয়ে হাঁটা (ব্রিস্ক ইন্টারভাল ওয়াকিং) পেটের মেদ কমানো এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ন্যাচার কম্যুনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় কেন্দ্রীয় স্থূলতায় আক্রান্ত ৩১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ককে ১৬ সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সপ্তাহে মোট ৭৫ মিনিট দ্রুত গতিতে বিরতি দিয়ে হাঁটার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দল সপ্তাহের একদিনেই পুরো ৭৫ মিনিট হাঁটেন, অন্য দল সপ্তাহে তিন দিন ভাগ করে হাঁটেন।
১৬ সপ্তাহ পর গবেষকরা দেখেন, দুই দলের মধ্যেই শরীরের চর্বি কমেছে। পাশাপাশি পেটের মেদ, কোমরের পরিধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত অতিরিক্ত চর্বির পরিমাণেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একদিনে ৭৫ মিনিট হাঁটা কিংবা সপ্তাহে তিন দিন ভাগ করে হাঁটার মধ্যে ফলাফলের বড় কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেটের ভেতরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি শরীরের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, ফ্যাটি লিভারসহ বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ব্রিস্ক ইন্টারভাল ওয়াকিং হলো দ্রুত ও স্বাভাবিক গতির হাঁটার সমন্বিত একটি ব্যায়াম পদ্ধতি। যেমন—৩ মিনিট দ্রুত হাঁটার পর ৩ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা এবং এভাবে কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করা।
গবেষকদের মতে, সাধারণ হাঁটার তুলনায় এই পদ্ধতিতে কম সময়ে বেশি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যারা সময়ের অভাবে নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন না, তাদের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে।
যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, পেটের মেদ বেশি, কিংবা নতুন করে ব্যায়ামের অভ্যাস শুরু করতে চান—তারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করে উপকার পেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শুরুতে সপ্তাহে তিন দিন ২৫ মিনিট করে অথবা একদিনে ৭৫ মিনিট বিরতি দিয়ে দ্রুত হাঁটা যেতে পারে। হাঁটার আগে হালকা স্ট্রেচিং, আরামদায়ক জুতা ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে যাদের আগে থেকে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
























