০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন তালিয়াফিকো, আর্জেন্টিনা দলে বিদায়ের সুর

খেলাধুলা ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপকে নিজের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখছেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকো।

স্পোর্টস ডেস্ক: টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এরপরই আর্জেন্টিনার সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের বিদায়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এবার নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে মুখ খুলেছেন ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকো।

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এটিই হতে যাচ্ছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

লিওনেল মেসিও সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন। তবে বিশ্বকাপ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি। অন্যদিকে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ৩৩ বছর বয়সী লেফটব্যাক তালিয়াফিকোও এবার একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

স্ত্রী কারো ক্যালভানির সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত টুইচ চ্যানেলে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সময় তালিয়াফিকো বলেন, এই বিশ্বকাপকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ এটি সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ।

তালিয়াফিকোর ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপটিকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব। হয়তো এর কারণ এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। ঠিক জানি না, তবে আমার মনে হয় এটাই ছিল শেষ। আমার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার মতো সামর্থ্য নেই।’

বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলেছেন তালিয়াফিকো। বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার সংখ্যায় আর্জেন্টাইনদের মধ্যে তিনি সপ্তম। তার ওপরে রয়েছেন লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, আনহেল ডি মারিয়া ও মারিও কেম্পেস।

জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৩ ম্যাচ খেলেছেন তালিয়াফিকো। ১০০ ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি অর্জন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তার।

তিনি বলেন, ‘আমি ১০০তম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, তবে আমার মনে হয় না তা পারব।’

ওতামেন্দির পাশাপাশি বিশ্বকাপ শেষে বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসও। ফলে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে নিয়ে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে গেলেও নিজেদের অর্জন নিয়ে গর্বিত তালিয়াফিকো। তার মতে, টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা এবং দুটি পদক জেতা বড় অর্জন।

তালিয়াফিকো বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে স্বর্ণপদক আছে, ২০২২ সালে পাওয়া। এখন আমরা রানার্সআপের পদক পেলাম। আমরা বিশ্বকাপে যা করেছি, সেজন্য গর্বিত হওয়া উচিত। ধারাবাহিকভাবে ফাইনাল খেলা এবং দুটি পদক জেতা সহজ ব্যাপার নয়। আমাদের এটিকে মূল্যায়ন করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এটাও জানতে হবে কীভাবে মাথা উঁচু রেখে হার মেনে নিতে হয়। এটি প্রমাণ করে যে আপনি সফল হয়েছেন। আপনি শেষ পর্যন্ত লড়েছেন, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত, কখনো জয় আসে, আবার কখনো পরাজয়—ফুটবল তো এমনই।’

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি যে কেবল এক মাসের বিষয় নয়, সেটিও উল্লেখ করেন তালিয়াফিকো। তার মতে, একটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি আগের আসর শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘এমনটা ভাববেন না যে এর প্রস্তুতি কেবল এক মাসের বিষয়। বিষয়টি কেবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নয়, যার সময়কাল মাসখানেকের সামান্য বেশি। এর প্রস্তুতি চলছে সাড়ে তিন বছর ধরে, অর্থাৎ গত বিশ্বকাপের সময় থেকেই।’

তালিয়াফিকোর মতে, শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া।

শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন তালিয়াফিকো, আর্জেন্টিনা দলে বিদায়ের সুর

সময় : ০১:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক: টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এরপরই আর্জেন্টিনার সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের বিদায়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এবার নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে মুখ খুলেছেন ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকো।

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এটিই হতে যাচ্ছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

লিওনেল মেসিও সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন। তবে বিশ্বকাপ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি। অন্যদিকে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ৩৩ বছর বয়সী লেফটব্যাক তালিয়াফিকোও এবার একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

স্ত্রী কারো ক্যালভানির সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত টুইচ চ্যানেলে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সময় তালিয়াফিকো বলেন, এই বিশ্বকাপকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ এটি সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ।

তালিয়াফিকোর ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপটিকে আমি অনেক বেশি গুরুত্ব দেব। হয়তো এর কারণ এটাই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। ঠিক জানি না, তবে আমার মনে হয় এটাই ছিল শেষ। আমার আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার মতো সামর্থ্য নেই।’

বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলেছেন তালিয়াফিকো। বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার সংখ্যায় আর্জেন্টাইনদের মধ্যে তিনি সপ্তম। তার ওপরে রয়েছেন লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, আনহেল ডি মারিয়া ও মারিও কেম্পেস।

জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৩ ম্যাচ খেলেছেন তালিয়াফিকো। ১০০ ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি অর্জন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তার।

তিনি বলেন, ‘আমি ১০০তম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে চাই, তবে আমার মনে হয় না তা পারব।’

ওতামেন্দির পাশাপাশি বিশ্বকাপ শেষে বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসও। ফলে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে নিয়ে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে গেলেও নিজেদের অর্জন নিয়ে গর্বিত তালিয়াফিকো। তার মতে, টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা এবং দুটি পদক জেতা বড় অর্জন।

তালিয়াফিকো বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে স্বর্ণপদক আছে, ২০২২ সালে পাওয়া। এখন আমরা রানার্সআপের পদক পেলাম। আমরা বিশ্বকাপে যা করেছি, সেজন্য গর্বিত হওয়া উচিত। ধারাবাহিকভাবে ফাইনাল খেলা এবং দুটি পদক জেতা সহজ ব্যাপার নয়। আমাদের এটিকে মূল্যায়ন করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এটাও জানতে হবে কীভাবে মাথা উঁচু রেখে হার মেনে নিতে হয়। এটি প্রমাণ করে যে আপনি সফল হয়েছেন। আপনি শেষ পর্যন্ত লড়েছেন, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত, কখনো জয় আসে, আবার কখনো পরাজয়—ফুটবল তো এমনই।’

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি যে কেবল এক মাসের বিষয় নয়, সেটিও উল্লেখ করেন তালিয়াফিকো। তার মতে, একটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি আগের আসর শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘এমনটা ভাববেন না যে এর প্রস্তুতি কেবল এক মাসের বিষয়। বিষয়টি কেবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নয়, যার সময়কাল মাসখানেকের সামান্য বেশি। এর প্রস্তুতি চলছে সাড়ে তিন বছর ধরে, অর্থাৎ গত বিশ্বকাপের সময় থেকেই।’

তালিয়াফিকোর মতে, শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের জন্য খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া।