ঋতুস্রাবের ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে যে ৩ যোগব্যায়াম
ঋতুস্রাবের সময়ে তলপেটে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ভোগেন অনেক নারী। আবার অনেকের ঋতুস্রাব অনিয়মিতও হয়। এসব সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শরীর ও মন ভালো রাখতে কিছু যোগব্যায়াম সহায়ক হতে পারে।
বৃশ্চিকাসন
প্রথমে ম্যাটের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। এরপর পর্বতাসন বা অধোমুখো শবাসনের ভঙ্গিতে ম্যাটে বসুন। কনুই ভাঁজ করে দুই হাত মাটিতে রাখুন। এবার হাত ও পায়ের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন।
মাটি থেকে পায়ের পাতা তুলতে শুরু করুন। এ সময় গোটা শরীরের ভার হাতের ওপর থাকবে। শ্বাস নিতে নিতে একে একে দুই পা ওপরে তুলুন। এরপর দুই হাঁটু ভাঁজ করে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পায়ের পাতা যতটা সম্ভব মাথার কাছাকাছি নিয়ে আসুন।
খেয়াল রাখতে হবে, বুক, পেট ও তলপেট অনেকটা ধনুকের মতো বাঁকা থাকবে। পিঠ, কোমর ও নিতম্ব থাকবে টানটান।
সিদ্ধাসন
প্রথমে ম্যাটের ওপর সোজা হয়ে বসুন। পিঠ টানটান থাকবে। ধীরে ধীরে শ্বাসপ্রশ্বাস নিন।
বাঁ পা ভাঁজ করে বাঁ হাঁটু ডান পায়ের কাফ মাসলের ওপর রাখুন। একইভাবে ডান পা ভাঁজ করে ডান হাঁটু বাঁ পায়ের কাফ মাসলের ওপর রাখুন। এরপর দুই হাত হাঁটুর ওপর রাখুন।
চাইলে জ্ঞান মুদ্রা করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলের ডগা পরস্পর স্পর্শ করবে এবং বাকি তিনটি আঙুল সোজা থাকবে। নিয়মিত এই আসন অভ্যাস করলে উদ্বেগ কমাতে ও মন ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
শশাঙ্গাসন
প্রথমে বজ্রাসনে বসুন। এরপর মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে কপাল দিয়ে হাঁটু স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। এবার দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের গোড়ালি ধরুন।
স্বাভাবিকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে থাকুন। এরপর ধীরে ধীরে মাথার তালু মাটিতে স্পর্শ করানোর চেষ্টা করুন। প্রায় ১০ পর্যন্ত গুনে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।
প্রথমবারেই পুরো ভঙ্গিটি করা সম্ভব না হলে জোর করার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হওয়া যেতে পারে।
ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত ব্যথা, দীর্ঘদিন অনিয়মিত ঋতুস্রাব বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে শুধু যোগব্যায়ামের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

























